April 19, 2026, 11:37 pm

সোনারগাঁয়ের মাদকাসক্ত ছেলের হাতে বাবা খুন, ছেলে পলাতক

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মাদকের টাকা না পেয়ে শফিকুল ইসলাম (৪৫) নামে এক কৃষককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর থেকে ছেলে মো. রিফাত (১৮) পলাতক রয়েছে।

রোববার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শফিকুল ইসলাম ওই এলাকার মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কৃষক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় জানায়, মো. রিফাত দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। এ নিয়ে তাদের সংসারে বিভিন্ন সময়ে ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকতো। রোববার দুপুরে বাবা শফিকুল ইসলামের কাছে রিফাত মাদক সেবনের জন্য দুই হাজার টাকা দাবি করেন। ওই টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে ছেলেকে চর থাপ্পড় দেন শফিকুল। পরে তার ছেলে রিফাত উত্তেজিত হয়ে বাবাকে ছুরিকাঘাত করে জখম করে পালিয়ে যায়। এ সময় আশেপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ বেসরকারী ক্লিনিকে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহতের ভাতিজা ইয়ামিন সুজন বলেন, রিফাত এলাকার কিছু খারাপ ছেলেদের সাথে মিশে মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। রিফাত মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে প্রায় সময় এ নিয়ে সংসারের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো। আজ একইভাবে মাদকের টাকা না পেয়ে তার বাবাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

বিষয়ে নিশ্চিত করে সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাশেদুল ইসলাম খান বলেন, ছেলে মাদকাসক্ত ছিল। সে মাদকের টাকা বাবার কাছে চেয়েছিল। সেই টাকা না পেয়ে বাবাকে ছুরিকাঘাত করে, এতে তার মৃত্যু হয়। ছেলেকে গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা